• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন

সরকারি সেবায় নাগরিকের প্রবেশাধিকার এখন সহজ – ফয়েজ তৈয়্যব

মাহবুবুল হাসান শিশির / ১৮৬ বার দেখা হয়েছে
সর্বশেষ : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন,সরকারি সেবায় নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সহজ করা, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানো এবং এক ছাদের নিচে সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে যাত্রা শুরু করেছে নাগরিক সেবা কেন্দ্র। নাগরিক সেবা বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সংস্কারমূলক উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য হলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এক জায়গা থেকেই সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা।  সেবাগ্রহীতার আস্থা, সন্তুষ্টি ও অভিজ্ঞতাই হবে এই উদ্যোগের সফলতার প্রধান মানদণ্ড। শুক্রবার সকালে কুমিল্লার সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসান। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মোঃ নবীর উদ্দীন এবং এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম।

উদ্যোগের বিষয়ে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, একীভূত নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ায় এখন নাগরিকরা নাগরিক সেবা কেন্দ্র থেকে এক জায়গাতেই চারশ’৯৩টি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন, যা সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করেছে।  এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ভোগান্তি কমেছে এবং সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কর্মশালার সভাপতি ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসান বলেন, উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের সমন্বিত ও কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে এই উদ্যোগ দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও গতিশীল হবে। সঠিক তথ্য ও সচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং এই উদ্যোগ আরও টেকসই হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মোঃ সালমান ফার্সির সঞ্চালনায়  স্বাগত বক্তৃতা করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন।

কর্মশালায় এটুআই-এর হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার বিশ্বাস, জুনিয়র কনসালটেন্ট কামাল হোসাইন এবং মাসুদ রানা, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনসহ কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে অনুরূপ কর্মশালা চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে  কর্মশালায় বিশেষ অতিথির  বক্তৃতা করেন এটুআই-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন।

স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) একরামুল ছিদ্দিক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, এটুআই-এর হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার বিশ্বাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া খাতুন।

কর্মশালায় চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর...