ভোরের আলো তখনো ফোটেনি। কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়াকে উপক্ষো করে দূরদূরান্ত থেকে উদ্যোক্তারা হাজির খুলনা শিল্পকলা একাডেমিতে। দক্ষতা বৃদ্ধি করে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবার ব্রতেই নির্ধারিত সময়ের আগেই টাইটুম্বুর শিল্পকলা মিলনায়তন।স্বতর্স্ফূত এই অংশগ্রহণে অভিভূত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
শুক্রবার সকালে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে এবং খুলনা জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।কর্মশালার মূল অধিবেশনে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি, বিদ্যমান সেবাসমূহ, সার্বিক অগ্রগতি, নাগরিক সেবা কেন্দ্রের কাঠামো, উদ্যোক্তাদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমানে ১২টি মন্ত্রণালয় নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সরকারের প্রায় এক হাজার সেবা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এক জায়গা থেকেই নাগরিকরা সব প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এ সময় তিনি আরো বলেন,কেউ যেন সেবা নিতে এসে অনিশ্চয়তা বা হয়রানির মুখে না পড়েন এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবেই এই উদ্যোগের সুফল স্থায়ী হবে। তিনি উদ্যোক্তা ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর প্রকল্প পরিচালক মোহা. আব্দুর রফিক বলেন,উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তা সমাধানে এটুআই সবসময় উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। কেন্দ্র পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের ভূমিকা কেবল সেবা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সেবাপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করে সেবার মান ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

কর্মশালায় নাগরিক সেবা কেন্দ্রের রূপান্তর ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময় পর্ব পরিচালনা করেন এটুআই-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম। তিনি বলেন, বর্তমানে নাগরিক সেবা কেন্দ্র থেকে ৪৯৩টি সরকারি সেবা পাওয়া যাচ্ছে। আগে এসব সেবা পেতে নাগরিকদের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যেতে হতো, এখন একটি একীভূত প্ল্যাটফর্ম থেকেই সব সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সেবা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয়ের সেবা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, নাগরিক সেবা কেন্দ্র পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে উদ্যোক্তারা কেন্দ্র পরিচালনা করবেন, যা সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করবে।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ ও বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) জয়দেব চক্রবর্ত্তী। খুলনা জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি কানিজ ফাতেমা লিজা।

এসময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের চিফ টেকনোলজি এডভাইজার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট মোঃ নবীর উদ্দীন,সিনিয়র কনসালটেন্ট ফজলুল জাহিদ পাভেল ও হেড অব কমিউনিকেশন মোহাম্মদ সফিউল আযম উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার প্রায় পাঁচশত উদ্যোক্তা অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে উদ্যোক্তাদের কণ্ঠেও ঝরল নাগরিক সেবা প্রদানের তাদের দীপ্ত প্রত্যয়ের সুর।