যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ আবু তাহের সিদ্দিকী (৬১) ইন্তেকাল করেছেন।(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাহের সিদ্দিকী দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনি রোগে ভুগছিলেন। বছর তিনেক আগে তাঁর শরীরে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে হঠাৎ অসুস্থ পড়লে প্রথমে যশোর সদর হাসপাতাল ও পরে একইদিন খুলনার সিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শরীরের অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে মৃত্যুবরণ করেন বাঘারপাড়া বাসীর ভারোবাসার এ নেতা। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সিদ্দিকীর মৃত্যুতে বাঘারপাড়াবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তাঁরা চার ভাই ও ৫ বোন। ভাইদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক ছিলেন তিনি। আবু তাহের সিদ্দিকী ১৯৯২ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে ২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৭ বছর উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৯ সালে উপজেলা পদ্ধতি ফের চালু হলে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন ২০০৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত।
২০১৫ সালে বাঘারপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে চলতি বছরের ১৩ই জানুয়ারি দীর্ঘ ১০ বছর পর দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় তাঁকে। একসময়ের বাম (জাসদ ছাত্রলীগ) রাজনীতিক আবু তাহের সিদ্দিকী ‘৯০ দশকে বিএনপিতে যোগদান করে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। একমাত্র ছেলে শাফিন অস্ট্রেলিয়া থাকেন। সে দেশে আসার পর শনিবার জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবার থেকে জানা গেছে।