• শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

ঝিনাইদহে দৃষ্টির আলো ফেরাতে জেলা প্রশাসকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

অনুপ কুমার অধিকারী / ৩৩২ বার দেখা হয়েছে
সর্বশেষ : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দৃষ্টির আলো ফেরাতে ঝিনাইদহ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে বসেছিল এক প্রাণের মেলা।  উপলক্ষ্য ফুটবল ম্যাচ হলেও ‘অন্ধজনে দেহো আলো’ এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ  নিয়েছিলেন এক মানবিক উদ্যোগ। দর্শনী টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২০ টাকা। বিক্রিত টিকিট থেকে অর্জিত  সমুদয় অর্থ ঝিনাইদহ চক্ষু হাসপাতাল ও অন্ধ পুনর্বাসন তহবিলে হস্তান্তর করা হয়।  জনকল্যাণে জেলা প্রশাসনের জাকজমকপূর্ণ  এমন  আয়োজনে ঝরেছে মানুষের অকুণ্ঠ ভালবাসা।

বুধবার দুপুর থেকেই জেলার ৬টি উপজেলা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা স্টেডিয়ামে আসতে শুরু করেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে ফুটবল ম্যাচের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবিএম খালিদ হোসনে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) নারায়ণ চন্দ্র পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুবীর কুমার নাথ, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাবেক সভাপতি আসিফ কাজল, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঝিনাইদহ সদর, মহেশপুর ও শৈলকুপা উপজেলা (টিম-১) এবং হরিণাকুণ্ডু, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা (টিম-২) নিয়ে গঠিত পৃথক দুটি টিম প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেয়। এছাড়া খেলার মধ্য বিরতীতে দেশাত্মবোধক সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদে শিল্পীরা।

উদ্যোগের বিষয়ে  জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্ধ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে। অন্ধ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ সমাজের বোঝা নয়, তারা আমাদের সমাজের অংশ। পৃষ্টপোষকতা ও সঠিক গাইডলাইন পেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা দৃষ্টিহীন মানুষগুলোর পুনর্বাসন ও তাদের আর্থিক ভাবে সহায়তা করার লক্ষ্যে  এ আয়োজন করেছি।  আমরা চাই, আগামীর বাংলাদেশ হবে সুখী সমৃদ্ধ ও শান্তির বাংলাদেশ।  সবাই মিলে এই বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর...