ডিজিটাল চেঞ্জমেকার হিসেবে দেশের ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে আরও উদ্ভাবনী, নাগরিকবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আর্থিকভাবে টেকসই করতে সারাদেশ থেকে ২৬ জন নারী উদ্যোক্তাকে নিয়ে ঢাকায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউএনডিপির সহায়তায় এটুআই ‘উইমেনস অন্ট্রাপ্রিনিয়রস এজ ডিজিটাল চেঞ্জমেকার’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, ইউএনডিপির সিনিয়র গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট শিলা তাসনিম হক, এটুআই এর হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট সাম্স উল আরেফিন খান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহা এমিয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআইএস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাকিবুল হক, লিড ফ্যাসিলিটের আব্দুল্লাহ জাফর, এসএমই ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম, ইউএনডিপি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন আব্দুল কাইউম, এটুআই হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম, এটুআই হেড অব ফিউচার অফ ওয়ার্ক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ উজ্জ্বল,ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট রুমানা আক্তার তুলি, এটুআইয়ের ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার বিশ্বাস, ডিজিটাল সেন্টার টিমের মাসুম বিল্লাহ, কামাল হোসাইন, আরিফ হোসাইন প্রমুখ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। এছাড়াও এটুআই এর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজিটাল সেন্টার টিমের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আর্থিক সক্ষমতা, ডিজিটাল সেন্টার ২.০, লিডারশিপ, দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল টুল, এজেন্ট ব্যাংকিং, ই-কমার্স, কমিউনিকেশনস, স্টোরি টেলিং, নেটওয়ার্কিং সেবা উদ্ভাবন ও টেকসই ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি নাগরিকের প্রয়োজন, নারী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর চাহিদা, জনআস্থা এবং ডিজিটাল নেতৃত্বের গুরুত্ব নিয়েও ধারণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ, প্রভাব বিস্তার, যৌথভাবে সমস্যা সমাধান, ডিজিটাল ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্র্যান্ডিং, বাজারসংযোগ, অংশীদারত্ব এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততার মতো দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কর্মশালার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা নেতৃত্বের বিকাশ, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, সেবা উদ্ভাবন এবং কমিউনিটিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে পরিমাপযোগ্য ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন। ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ককে আরো শক্তিশালী ভাবে এগিয়ে নিতে পরবর্তী সময়ে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিজিটাল সেন্টারের সেবার মান ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০০৬ সাল থেকে ডিজিটাল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নির্বাচিত নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন এবং বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ডিজিটাল সেন্টার ২.০ রূপান্তর এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ওয়ার্ড এবং গ্রাম পর্যায়ে রুরাল ডিজিটাল সেন্টার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেবাকে আরও সহজলভ্য, মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নাগরিকবান্ধব করার পাশাপাশি নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

ডিজিটাল সেন্টারের সেবা প্রদানব্যবস্থা, সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম ও সক্ষমতা এবং টেকসই ব্যবসায়িক মডেল পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে ডিজিটাল সেন্টার ২.০ রূপান্তরের লক্ষ্যে ইউএনডিপির সহায়তায় বেসলাইন অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করা হয়েছে।